NRB Link

21 February - International Mother Language Day History অমর একুশে - আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ইতিহাস

১৯৪৭

বৃটিশ ভারত বিভক্তি

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বিভক্ত হয় বৃটিশ ভারত, জন্ম হয় ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের। পূর্ব পাকিস্তানপশ্চিম পাকিস্তান এই দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান। বৃটিশ ভারত বিভক্তির পর প্রায় ৪ কোটি ৪০ লক্ষ বাংলা ভাষাভাষী মানুষ নবগঠিত পাকিস্তানের নাগরিকে পরিণত হয়। পাকিস্তানের দুটি অংশের ভাষা, শিল্প ও সংস্কৃতি ছিলো অনেকাংশে আলাদা।

মে ১৭, ১৯৪৭

পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা

পাকিস্তান সরকার, প্রশাসন এবং সামরিক বাহিনীতে পশ্চিম পাকিস্তানিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। বিভিন্ন কাজে সাধারণত উর্দু ভাষার প্রচলন ছিল। কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বাংলাকেই তাদের প্রধান ভাষা হিসেবে ব্যবহারে অভ্যস্ত ছিল। ১৭ মে, ১৯৪৭ সালে হায়দ্রাবাদে এক উর্দু সম্মেলনে মুসলিম লীগের নেতা চৌধুরী খালিকুজ্জামান ঘোষণা করেন, “উর্দু হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।” একই বছর জুলাই এ আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিয়াউদ্দিন আহমদ চৌধুরী খালিকুজ্জামানের সাথে একমত প্রকাশ করেন।

জুলাই ২৯, ১৯৪৭

প্রতিবাদের শুরু

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং মুহাম্মদ এনামুল হক সহ বেশ কয়েকজন বুদ্ধিজীবী চৌধুরী খালেকুজ্জামানের প্রস্তাবের বিপক্ষে ছিলেন। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকায় লিখেছিলেন যে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করা উচিত।

সেপ্টেম্বর ১৫, ১৯৪৭

তমুদ্দিন মজলিস

অধ্যক্ষ আবুল কাশেমের নেতৃত্বে সংগঠিত 'তমুদ্দিন মজলিস' (সাংস্কৃতিক সমাজ, পণ্ডিত, বুদ্ধিজীবী, লেখক ও সাংবাদিকদের সংগঠন) বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার আন্দোলন শুরু করে। তমুদ্দুন মজলিশ পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু? শিরোনামে একটি প্রচারপত্র প্রকাশ করে। লেখক কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমেদ এবং অধ্যক্ষ আবুল কাশেম পূর্ব বাংলার একমাত্র শিক্ষা, অফিস ও আদালতের ভাষা হিসেবে বাংলা চালু করার জোরালো দাবি জানান।

অক্টোবর ১, ১৯৪৭

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ

বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাঙালি রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের সমন্বয়ে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।

নভেম্বর ২৬, ১৯৪৭

শিক্ষার মাধ্যম

করাচিতে পাকিস্তানের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানের উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষা সম্মেলনেে, উর্দু এবং ইংরেজিকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবং এক বছরের জন্য সকল সরকারি কাজ ও প্রাথমিক শিক্ষায় উর্দু বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা ও বিক্ষোভ জানানো হয়। ওই বৈঠকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা এবং পূর্ব পাকিস্তানে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলাকে ব্যবহার করার জোরালো দাবি উত্থাপিত হয়।

ডিসেম্বর ৬ - ৮, ১৯৪৭

প্রথম সভা

ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বৈঠক করে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য এটি ছিল ছাত্রদের প্রথম সভা। ৮ ডিসেম্বর, ছাত্ররা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাকে সরকারি ভাষা করার দাবি জানায় এবং তাদের উদ্দেশ্য প্রচারের জন্য ঢাকায় মিছিল, সমাবেশের আয়োজন করে।

জানুয়ারী, ১৯৪৮

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ

শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রথম সভাপতি করে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগ গঠিত হয়। সংগঠনের কর্মীরা বাংলাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাষা হিসেবে তুলে ধরার জন্য মুসলিম লীগের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার অঙ্গীকার করেন।

ফেব্রুয়ারী ২৩, ১৯৪৮

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রাথমিক প্রস্তাব

পূর্ব বাংলার কংগ্রেস নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের গণপরিষদে সদস্যদের বাংলায় কথা বলার এবং সরকারী উদ্দেশ্যে এর ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার জন্য আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করেন। তাঁর প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন পূর্ববঙ্গের বিধায়ক প্রেম হরি বর্মণ, ভূপেন্দ্র কুমার দত্ত এবং শ্রীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু মুসলিম লীগ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে। এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বক্তৃতা দেন খাজা নাজিমুদ্দিন। তাই প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান প্রস্তাবটিকে পাকিস্তানি জনগণকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা হিসাবে নিন্দা করে আইনটি বাতিল করেন।

মার্চ ২, ১৯৪৮

রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠন

২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীদের সমাবেশ হয়। ওই সভায় শামসুল আলমকে আহ্বায়ক করে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয। সেখান থেকে ছাত্ররা ১১ মার্চ ধর্মঘটের ডাক দেয় এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে তার সাহসী ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানায়।

মার্চ ১১, ১৯৪৮

বাংলা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট

ডাকটিকিট, মুদ্রা ও নৌবাহিনীর নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলা বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে সারাদেশে ধর্মঘট করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। সরকার বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী ডাকে। বিকেলে প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হলে পুলিশ সভা পন্ড করে দেয় এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছিলেন শামসুল হক, শেখ মুজিবুর রহমান, অলি আহাদ, শওকত আলী, কাজী গোলাম মাহবুব, রওশন আলম, রফিকুল আলম, আব্দুল লতিফ তালুকদার, শাহ মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।

মার্চ ১৫, ১৯৪৮

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার অঙ্গীকার

১১ তারিখের ঘটনার পর ১২ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট চলে। আন্দোলনের তীব্রতার মুখে খাজা নাজিমুদ্দিন স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।

মার্চ ২১, ১৯৪৮

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২১ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছান। দেশভাগের পর এটি ছিল তার প্রথম পূর্ব পাকিস্তান সফর। ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে তিনি ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি ভাষা আন্দোলনকে পাকিস্তানের মুসলমানদের বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। যদিও তিনি বলেছিলেন যে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক ভাষা প্রদেশের অধিবাসীদের ভাষা অনুসারে নির্ধারিত হবে; কিন্তু তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করেন- 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়'। ছাত্র সংগঠনের একটি অংশ তৎক্ষণাৎ জিন্নাহর মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

মার্চ ২৪, ১৯৪৮

ছাত্রদের প্রতিবাদ

কার্জন হলে এক বিশেষ সমাবর্তন সভায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন। তিনি এই আন্দোলনকে সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ উল্লেখ করে অভিযোগ করেন যে এর মাধ্যমে কিছু লোক তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। যখন তিনি উর্দু সম্পর্কে তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন, তখন ছাত্ররে তৎক্ষণাৎসমস্বরে চিৎকার করে প্রতিবাদ কর।

নভেম্বর ২৭, ১৯৪৮

লিয়াকত আলী খানের নীরবতা

১৯৪৭ সালের ১৭ নভেম্বর পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান পূর্ব পাকিস্তান সফর করেন। ২৭ নভেম্বর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে ছাত্রসভায় ভাষণ দেন। ওই বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দেওয়া মানপত্রে আবারও বাংলা ভাষার দাবি জানানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন।

ফেব্রুয়ারী, ১৯৪৯

সব ভাষার জন্য আরবি বর্ণমালা

বাংলাসহ সব ভাষার জন্য আরবি বর্ণমালা চালুর প্রস্তাব করেন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমানডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং পূর্ব বাংলার অন্যান্য ভাষাবিদরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মার্চ ১১, ১৯৫০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কমিটি

বামপন্থী ছাত্র আবদুল মতিনের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন কমিটি গঠিত হয়।

এপ্রিল, ১৯৫০

সব ভাষার জন্য আরবি বর্ণমালা প্রস্তাবের প্রতিবাদ

সব ভাষার জন্য আরবি বর্ণমালা চালুর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে পেশ করা হয়। নবগঠিত আওয়ামী-মুসলিম লীগের নেতৃবৃন্দ এবং ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।

ডিসেম্বর ৭, ১৯৫০

পূর্ব বাংলা ভাষা পরিষদ

মাওলানা আকরাম খানের নেতৃত্বে ১৬ সদস্যের পূর্ব বাংলা ভাষা পরিষদের জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলা ভাষা লেখার জন্য আরবি বর্ণমালা ব্যবহারের প্রস্তাবটিকে উদ্ভট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সব অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা ব্যবহারের দাবি জানায়। কিন্তু প্রতিবেদনটি ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

মার্চ ১১, ১৯৫১

স্মারকলিপি

উর্দুর সঙ্গে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন পরিষদের পক্ষ থেকে সব সংবাদপত্র ও আইন পরিষদের সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি পাঠানো হয়।

মার্চ ১৬-১৭, ১৯৫১

প্রতিবাদ ও জনমত

ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষকদের সম্মেলনে বাংলা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে চাপানোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে বলেন।

মার্চ ২৭, ১৯৫১

সব ভাষার জন্য আরবি বর্ণমালার পুনরপ্রস্তাব

আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব ফের পেশ করা হয় বিধান পরিষদে।

জানুয়ারী ২৭, ১৯৫২

ছাত্রদের প্রতিবাদ

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ২৫ জানুয়ারি ঢাকায় আসেন এবং ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এক জনসভায় দীর্ঘ ভাষণ দেন। তিনি জিন্নাহর কথার সাথে মিলিয়ে বলেছিলেন, উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা। তার বক্তব্য শুনে ছাত্ররা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

জানুয়ারী ২৯ - ৩০, ১৯৫২

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ

খাজা নাজিমুদ্দিনের বক্তব্যের প্রতিবাদে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ২৯ জানুয়ারি প্রতিবাদ সভা এবং ৩০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্র ধর্মঘট করে। ওই দিন ছাত্রসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালয়ে জড়ো হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেন।

জানুয়ারী ৩১, ১৯৫২

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদ

ফেব্রুয়ারী ৪, ১৯৫২

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ

আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জড়ো হন। সমাবেশে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাবের প্রতিবাদ ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে।

ফেব্রুয়ারী ২০, ১৯৫২

১৪৪ ধারা

স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকায় এক মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে সরকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীরা সভা করে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়। ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে আওয়ামী মুসলিম লীগের ৯৪ নওয়াবপুর রোডস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মী পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও পরিষদের কিছু সদস্য নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার পক্ষে ছিলেন, অবশেষে ১১-৩ ভোটে ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারী ২০, ১৯৫২

১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত

২০ ফেব্রুয়ারির সেই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে একই বিষয়ে পৃথক পৃথক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সলিমুল্লাহ হলে ফকির শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়। আবদুল মোমিন ফজলুল হক মুসলিম হলে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন। শাহাবুদ্দিন আহমেদের প্রস্তাব অনুযায়ী আবদুল মমিন ও শামসুল আলম রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদকে এ সিদ্ধান্ত জানানোর দায়িত্ব নেন।

ফেব্রুয়ারী ২১, ১৯৫২

১৪৪ ধারা ভঙ্গ

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এদিন সকাল ৯টা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জড়ো হন। তারা ১৪৪ ধারা জারির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকে। শিক্ষার্থীরা গেটে জড়ো হয়ে বাধা ভেঙে রাস্তায় নামতে চাইলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে। উপাচার্য পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া বন্ধ করতে অনুরোধ করেন এবং শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।

ফেব্রুয়ারী ২১, ১৯৫২

পুলিশের গুলিবর্ষণ

শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের জন্য পুলিশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করতে শুরু করলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্ররা আবারও বিক্ষোভ শুরু করে। ছাত্ররা তাদের দাবি আদায়ে মিছিল করতে গেলে পুলিশ তাদের ওপর গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে আবদুল জব্বার ও রফিক উদ্দিন আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এছাড়া আব্দুস সালাম, আবুল বরকতসহ আরও অনেকে সে সময় নিহত হন। সেদিন অহিউল্লাহ নামে ৮/৯ বছরের এক ছেলেকেও হত্যা করা হয়।

ফেব্রুয়ারী ২২, ১৯৫২

শোক এবং চলমান আন্দোলন

২২ ফেব্রুয়ারী সারা দেশে মিছিল ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ জনগনও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে। জনগণ শোক পালনের পাশাপাশি ১৪৪ ধারা অমান্য করতে থাকে। শহরের বিভিন্ন স্থানে জানাজা ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। একই দিনে পুলিশের লাঞ্ছিত ও হত্যার একাধিক ঘটনা ঘটেে। নবাবপুর রোডে বিশাল জানাজা়র মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে ঢাকা হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান, ওয়াহিদুল্লাহ ও আবদুল আউয়াল শহীদ হন।

নভেম্বর ১৭, ১৯৯৯

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ভাষাশহীদ ও ভাষা আন্দোনলকারীদের আত্মত্যাগের উপর ভিত্তি করে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেে ইউনেস্কো। ফলে দিবসটি এখন আন্তর্জাতিক ভাবে পালন করা হয়।

Go to Bottom